খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য (অষ্টম অধ্যায়)

ষষ্ঠ শ্রেণি (মাধ্যমিক) - গার্হস্থ্যবিজ্ঞান - গ বিভাগ- খাদ্য ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা | NCTB BOOK
387
Please, contribute by adding content to খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য.
Content

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

রত্না ও রেশমা দুই বোন। ছোট রত্না রেশমাকে প্রশ্ন করল, খাবার খেলে কী হয়? রেশমা বলল, খাবার আমাদের দেহের নানা ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তাই শরীর ঠিক রাখতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করা দরকার।

শরীর সুস্থ থাকে
শরীর রোগাক্রান্ত হয়
শরীর বৃদ্ধি পায়
শরীর রোগমুক্ত হয়
শরীর গঠন করা
শরীরের বৃদ্ধি রোধ করা
শরীরের রোগ বৃদ্ধি করা
শরীর দুর্বল করা

খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্য (পাঠ ১)

292

খাদ্য- পৃথিবীতে বেঁচে থাকার জন্য সব প্রাণীরই খাদ্য অপরিহার্য। আমরা প্রতিদিন নানা রকমের খাবার খাই। মানুষ সবকিছু খাদ্য হিসাবে গ্রহণ করতে পারে না। মানুষের জন্য খাদ্য সেইসব বস্তু, যেগুলো মানুষ গ্রহণ করার পর পরিপাক করতে পারে এবং যা শরীরে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করে থাকে। অর্থাৎ যে সকল বস্তু গ্রহণের ফলে মানুষের দেহের পুষ্টি সাধন হয় তাকে খাদ্য বলে। আমাদের শরীর গঠনের কাঁচামাল হচ্ছে খাদ্য। নিচের ছকের মাধ্যমে খাদ্য কী তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি।

  • ক্ষুধা নিবৃত্ত করে
  • শরীরের ক্ষয়পূরণ ও বৃদ্ধি সাধন করে
  • শরীরের অভ্যন্তরীণ ক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রণ করে শরীরকে সুস্থ সবল ও কর্মক্ষম রাখে
  • শরীরের তাপশক্তি উৎপাদন করে

পুষ্টি- দেহে খাদ্যদ্রব্য শোষণের পর তা বিভিন্ন কাজ করে থাকে। যেমন- ক্ষুধা নিবৃত্ত করে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করে, দেহের বৃদ্ধির জন্য নতুন কোষ তৈরি করে, দেহের ক্ষয়প্রাপ্ত কোষের পুনর্গঠন করে, রোগপ্রতিরোধ করে শরীর সুস্থ সবল ও কর্মক্ষম রাখে। এই প্রক্রিয়াটিই হচ্ছে পুষ্টি।

স্বাস্থ্য- আমরা সকলেই জানি- 'স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল।' অনেক সময় আমরা ভালো স্বাস্থ্য বলতে মোটা হওয়াকে এবং খারাপ স্বাস্থ্য বলতে পাতলা শরীরকে বুঝি। কিন্তু কোনো মানুষের শুধুমাত্র মোটা বা চিকন শরীর দেখে স্বাস্থ্যের অবস্থা বোঝা খুবই কঠিন। কারণ অনেক সময় দেখা যায় যে, শরীর মোটা কিন্তু তার স্বাভাবিক কাজ করার ক্ষমতা খুবই কম। সে অল্প পরিশ্রমেই হাঁপিয়ে ওঠে এবং কাজে উৎসাহ পায় না। তার চেহারা মলিন থাকে। ঠিকমতো ঘুম হয় না। প্রায়ই নানা ধরনের অসুখে আক্রান্ত হয়। কারো সাথে সহজে মিশতে পারে না এবং কোনো কিছুই তার ভালো লাগে না। স্বাস্থ্যের সাথে অনেকগুলো বিষয় জড়িত। যেমন- দৈহিক অবস্থা, কর্মক্ষমতা, মানসিক অবস্থা, রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা ইত্যাদি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে- "রোগব্যাধি বা দুর্বলতা মুক্ত শারীরিক, মানসিক এবং সামাজিকভাবে সম্পূর্ণ সন্তোষজনক সুস্থ অবস্থাই স্বাস্থ্য।"

একজন স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির মধ্যে নিম্নলিখিত লক্ষণগুলো দেখা যাবে-
(১) শরীর সুগঠিত হবে ও স্বাভাবিক কাজ করার মতো যথেষ্ট শক্তি থাকবে।
(২) শরীরের ওজন সঠিক থাকবে।
(৩) মন সব সময় প্রফুল্ল থাকবে ও কাজে উৎসাহ থাকবে।
(৪) রোগ প্রতিরোধের স্বাভাবিক ক্ষমতা থাকবে। অর্থাৎ ঘন ঘন রোগে আক্রান্ত হবে না।
(৫) ত্বক মসৃণ হবে। চুল উজ্জ্বল ও চকচকে দেখাবে।
(৬) নিয়মিত ঘুম ও মল-মূত্র ত্যাগের অভ্যাস থাকবে।

কাজ-১ তোমার মধ্যে স্বাস্থ্যবান ব্যক্তির কোন কোন লক্ষণ বিদ্যমান আছে তা লেখো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

তাহনিকদের একদের বাড়ি রংপুরে। তাদের এলাকায় দুর্ভিক্ষ দেখা দেওয়ায় এলাকার মানুষ অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। ফলে তাদের এলাকার লোকজন বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

অনুচ্ছেদটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

সিথি ৫ম শ্রেণির একজন ছাত্রী। সেননিয়মিত স্কুলে যায়। পড়াশোনায় খুব মনযোগী। খেলাধুলা ও অন্যান্য কাজে তার খুব আগ্রহ।

খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যের সম্পর্ক (পাঠ ২)

344

খাদ্য গ্রহণের সাথে দেহের পুষ্টির সম্পর্ক গভীর। আমরা একটু লক্ষ করলে দেখতে পাই যে, মানুষ যদি বেশ কিছুদিন ঠিকমতো খাদ্য গ্রহণ করতে না পারে তা হলে তাদের শরীর ধীরে ধীরে দুর্বল হতে থাকে, রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কমে যায়, শরীর বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়, মেধা শক্তি কমে যায়।

এক কথায় বলা যায় যে, অপুষ্টি দেখা যায় এবং এই অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। আবার প্রয়োজনের চাইতে বেশি খাদ্য গ্রহণ করলে অতিপুষ্টি দেখা যায়, যেমন- শরীরের ওজন বেশি বেড়ে যায়। বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়। অন্যদিকে সঠিক পরিমাণে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের ফলে দেহের যথাযথ পুষ্টি অবস্থা বজায় থাকে।
যখন পর্যাপ্ত পরিমাণে ও দেহের চাহিদা অনুযায়ী খাদ্য গ্রহণ করা হয় তখন দেহ কাজ করা ক্ষমতা লাভ করে, রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, সহজে রোগে আক্রান্ত হয় না, মেধার যথাযথ বিকাশ ঘটে দীর্ঘায়ু লাভ করা যায় ও দেহের স্বাভাবিক পুষ্টিগত অবস্থা বজায় থাকে।

কাজ-১ খাদ্য বেশি খেলে অথবা কম গ্রহণ করলে তোমার কী কী সমস্যা হতে পারে তা লেখো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

খাদ্য, পুষ্টি ও পরিচ্ছন্নতার সম্পর্ক (পাঠ ৩)

674

ভালো স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য নিয়মিত পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টির সাথে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নিচের চিত্রে দেখতে পাই যে, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার রান্না ও খাওয়া হলে দেহ রোগাক্রান্ত হয় ও পুষ্টি প্রাপ্তি ব্যাহত হয়, অন্যদিকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার রান্না ও খাওয়া হলে দেহে যথাযথ পুষ্টি প্রাপ্তি ঘটে।

এখানে পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা বলতে খাদ্যদ্রব্য কাটাবাছার স্থান, খাদ্যদ্রব্য ধোওয়ার কাজে ব্যবহৃত পানি ও ধোওয়ার জায়গা, রান্না ও খাদ্য পরিবেশনের জন্য ব্যবহৃত তৈজসপত্র, রান্নার পর খাদ্যদ্রব্য রাখার স্থান, খাওয়ার জায়গা, যিনি রান্না ও পরিবেশন করেন তার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, খাওয়ার পূর্ব পর্যন্ত খাদ্য ঢেকে সংরক্ষণ, যিনি খাদ্য গ্রহণ করেন তার ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ইত্যাদি সকল বিষয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতাকেই বোঝায়।

বিভিন্ন রোগ-জীবাণুর উৎস হলো অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ। আর এই অপরিচ্ছন্ন পরিবেশেই খাদ্য বিভিন্ন ধরনের রোগ-জীবাণু দ্বারা সংক্রমিত হয়। আর এই সংক্রমিত খাদ্য গ্রহণ করলে শরীরে বিভিন্ন ধরনের রোগ সৃষ্টি হয়। যেমন- কোনো শিশুর মা তার জন্য পুষ্টিকর খাবারের ব্যবস্থা করলেন। কিন্তু শিশুটি অপরিচ্ছন্ন হাতে খাবার খাওয়ার কারণে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলো। এর ফলে তার শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান বের হয়ে গেল এবং শরীর দুর্বল হয়ে গেল। এই অবস্থায় অর্থাৎ শিশুটির দুর্বল শারীরিক অবস্থায় রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতা কম থাকার কারণে পুনরায় বিভিন্ন ধরনের রোগ জীবাণু দ্বারা শিশুটির আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি বেড়ে যায়। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে যে, একবার অসুস্থ হওয়ায় শরীর দুর্বল থাকে বলে পুনরায় জীবাণু দ্বারা আক্রমণের আশঙ্কা অনেক বেশি হয় এবং এই সময় যথাযথ পুষ্টিকর খাদ্য ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ এই দুইটি বিষয় নিশ্চিত করতে না পারলে বার বার অসুস্থ হওয়ার আশংকাও বেড়ে যায়। বিষয়টি অনেকটা চক্রাকারে ঘুরতে থাকে। একে অপুষ্টি ও অপরিচ্ছন্নতার ক্ষতিকর চক্র বলে।

পরিশেষে বলা যায় যে, খাদ্য প্রস্তুত থেকে শুরু করে খাদ্য গ্রহণ পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে খাদ্য জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যাবে। এইজন্য খাদ্য প্রস্তুত ও খাওয়ার আগে সকলেরই উচিত সাবান দিয়ে খুব ভালো করে হাত ধুয়ে নেওয়া। তাতে জীবাণু দ্বারা রোগ সৃষ্টির আশংকা অনেক কমে যাবে।

কাজ-১ অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাবার তৈরি ও গ্রহণ করলে কী কী শারীরিক সমস্যা হতে পারে পোস্টার পেপারে শ্রেণিতে উপস্থাপন করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

চিত্রের আলোকে প্রশ্নের উত্তর দাও

অপরিচ্ছন্ন চক্র
অপরিচ্ছন্ন চক্র
পুষ্টির চক্র
অপুষ্টি ও অপরিচ্ছন্নতার চক্র

খাদ্যের কাজ (পাঠ ৪)

368

খাদ্যের মধ্যে অবস্থিত পুষ্টি উপাদানগুলো আমাদের দেহে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে। যেমন-

১। দেহের গঠন ও বৃদ্ধি সাধন- খাদ্যের প্রধান কাজ হলো শরীর গঠন ও বৃদ্ধি সাধন করা। খাদ্যের বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শিশুর দেহের বৃদ্ধি ও সুগঠিত হওয়ার কাজগুলো সম্পন্ন করে থাকে।
২। ক্ষয়পূরণ- প্রতিনিয়তই আমাদের শরীর ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। এই ক্ষয়প্রাপ্ত দেহ পুনঃগঠন করার জন্য প্রয়োজন হয় খাদ্যের। প্রতিনিয়তই পুরাতন কোষের মৃত্যু ঘটে নতুন কোষ তৈরি হয়। খাদ্য থেকে প্রাপ্ত পুষ্টি উপাদান এই নতুন কোষ গঠনে সহায়তা করে। আমাদের হাত কেটে গেলে, রোগে আক্রান্ত হলে বা আঘাতপ্রাপ্ত হলে শরীরের যে ক্ষয় হয় তা পুষ্টিকর খাদ্যের সহায়তায় ধীরে ধীরে সেরে ওঠে।
৩। তাপ উৎপাদন ও কর্মশক্তি প্রদান- গাড়ি চালানোর জন্য যেমন জ্বালানি হিসাবে পেট্রোল বা গ্যাসের প্রয়োজন হয় তেমনি শরীরের বিভিন্ন কাজ, রক্ত সঞ্চালন, শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্যের পরিপাক, মলমূত্র ত্যাগ এবং বিভিন্ন কাজ সম্পাদনের জন্য শক্তির প্রয়োজন হয়। এমন কি যখন আমরা ঘুমাই তখনও শক্তি খরচ হয়। খাদ্য থেকে তাপ সৃষ্টি হয় ও শক্তি উৎপাদন হয়। এজন্য বেঁচে থাকার জন্য শক্তি উৎপাদন অপরিহার্য।
৪। অভ্যন্তরীণ কার্যাদি নিষ্ক্রয়ণ- আমাদের শরীরের ভিতরে বিভিন্ন ধরনের কাজ ঘটে থাকে, যার জন্য খাদ্যের প্রয়োজন হয়। যেমন- খাদ্য পরিপাক, শক্তি উৎপাদন, পেশির সঞ্চালন, কোষের গঠন ইত্যাদি। দেহের ভেতরে যে কাজগুলো ঘটছে সেগুলোর জন্যও খাদ্যের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
৫। রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা তৈরি- প্রতিদিনই আমাদের শরীর বিভিন্ন ধরনের জীবাণু দিয়ে আক্রান্ত হয়। এই জীবাণু আক্রমণের হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করার জন্য চাই শরীরের নিজস্ব স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা। আর বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের ফলে এই রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা অর্জিত হয় ও শরীর সহজেই সুস্থ থাকে। পুষ্টির অভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধক ক্ষমতা কমে যায় ও বিভিন্ন জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়। ফলে বিভিন্ন ধরনের রোগের লক্ষণ দেখা যায় এবং সহজেই অসুস্থ হবার প্রবণতা বেড়ে যায়।
উপরের আলোচনা থেকে আমরা একথা বলতে পারি যে, খাদ্য শুধু ক্ষুধাই নিবৃত্ত করে না, শরীরে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পাদন করে থাকে। তাই শরীর সুস্থ রাখতে হলে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করা উচিত।

কাজ ১ তোমার শরীরে খাদ্য কী কী কাজ করতে সাহায্য করে পোস্টার পেপারে প্রদর্শন করো।
কাজ ২ খাবার ঠিকমতো না খেলে তোমার দেহে কী কী সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে তুমি মনে করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ো 'প্রশ্নের উত্তর দাও

আরাফ ঠিকমতো খায় না। সে প্রায়ই অসুস্থ থাকে। ক্লাসে বিজ্ঞান শিক্ষক - খাদ্য অধ্যায় পড়াতে গিয়ে খাদ্যের কাজ সম্পর্কে আলোচনা করলেন।

খাদ্যের উপাদান ও উৎস (পাঠ ৫)

1.5k

খাদ্যকে ভাঙলে যে বিভিন্ন ধরনের উপাদান পাওয়া যায় তাদেরকে খাদ্য উপাদান বলে। এই খাদ্য উপাদানগুলো প্রধানত জৈব রাসায়নিক বস্তু। এই বস্তুগুলো আমাদের শরীরে বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে অর্থাৎ পুষ্টি সাধন করে, তাই এদেরকে পুষ্টি উপাদানও বলে। পুষ্টি উপাদানগুলো প্রধানত ছয় প্রকার।

নিচে ছকের মাধ্যমে খাদ্য উপাদানগুলোর উৎস ও কাজ দেখানো হলো-

পুষ্টি উপাদান সমৃদ্ধ খাদ্যের চিত্রছয়টি পুষ্টি উপাদানের প্রধান খাদ্য উৎস ও কাজ
(কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাদ্য)
কার্বোহাইড্রেট
উৎস- চাল, ভুট্টা, যব, গম, সাগু, আলু, মিষ্টি আলু, চিনি, গুড়, মিছরি, ক্যান্ডি, চকোলেট ইত্যাদি।
কাজ- দেহে তাপ ও শক্তি উৎপাদন করা।
(প্রোটিনজাতীয় খাদ্য)
প্রোটিন
প্রাণিজ উৎস- মাছ, মাংস, ডিম, দুধ, পনির, ছানা ইত্যাদি।
উদ্ভিজ্জ উৎস- বিভিন্ন ধরনের ডাল, সয়াবিন, বাদাম, চাল, গম, বিচি জাতীয় খাদ্য ইত্যাদি।
কাজ- দেহের কোষ গঠন, বৃদ্ধি সাধন ও ক্ষয়পূরণ করা।
(ফ্যাটজাতীয় খাদ্য)
ফ্যাট
উদ্ভিজ্জ উৎস- সয়াবিন তেল, সরিষার তেল, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, নারিকেল ইত্যাদি।
প্রাণিজ উৎস - ঘি, মাখন, কড মাছের তেল, শার্ক মাছের তেল, পশু-পাখির চর্বি ইত্যাদি।
কাজ- দেহে তাপ ও শক্তি সরবরাহ করা।
(ভিটামিন ও ধাতব লবণজাতীয় খাদ্য)
ভিটামিন ও ধাতব লবণ
প্রাণিজ উৎস- সামুদ্রিক মাছ, ডিমের কুসুম, মাংস, যকৃৎ, পনির, দুধ ও দুধ জাতীয় খাদ্য।
উদ্ভিজ্জ উৎস- ঢেঁকিছাঁটা চাল, বিভিন্ন ধরনের ডাল, মিষ্টি আলু, বিভিন্ন ধরনের শাক-সবজি যেমন- ঢেঁড়স, পেঁপে, চিচিংগা, লাউ, বেগুন, ধুন্দুল, টমেটো, মিষ্টি কুমড়া, গাজর, ইত্যাদি
বিভিন্ন ধরনের ফল যেমন- আমলকী, পেয়ারা, আমড়া, আতা, সফেদা, গাব, বরই, কুল, জাম্বুরা, বেল, লেবু, পেয়ারা, পাকা পেঁপে, আম, পাকা কাঁঠাল ইত্যাদি।
কাজ- দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীর সুস্থ ও সবল রাখা।
(পানির উৎসের চিত্র)
পানি
উৎস- সব ধরনের তরল খাবার, ডাবের পানি, রসাল ফল ইত্যাদি।
কাজ- খাদ্য পরিপাক ও শোষণে সহায়তা করা। শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে দিতেও সাহায্য করে।

উপরের ছক থেকে আমরা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের উৎস সম্পর্কে জানলাম। এই পুষ্টি উপাদানগুলোর প্রত্যেকেরই গুরুত্বপূর্ণ কাজ রয়েছে। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যদি আমরা বিভিন্ন ধরনের খাদ্য অন্তর্ভুক্ত করি তা হলে সহজেই পুষ্টি উপাদানগুলোর চাহিদা মেটানো সম্ভব।

কাজ- ১ খাদ্যের ৬টি উপাদানের ৩টি করে উৎসের নাম লিখ ও ছবি এঁকে শ্রেণিতে প্রদর্শন করো।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

অনুচ্ছেদটি পড়ে প্রশ্নের উত্তর দাও

শানু দুধ খেতে পছন্দ করে। কিন্তু সে শাকসবজি একদমই খেতে চায় না।

অজৈব ভৌত পদার্থ
জৈব রাসায়নিক বস্তু
অজৈব রাসায়নিক বস্তু
জৈব ভৌত পদার্থ

অনুশীলনী

227

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১. মানুষের শরীর সুস্থ রাখার জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান কয়টি-
ক. ৪টি
খ. ৫টি
গ. ৬টি
ঘ. ৭টি

২. মানব দেহে পুষ্টি সাধনের জন্য খাদ্য গ্রহণ প্রয়োজন-
ক. সামান্য পরিমাণে
খ. পর্যাপ্ত পরিমাণে
গ. অধিক পুষ্টি সমৃদ্ধ
ঘ. ভিটামিন সমৃদ্ধ

নিচের অনুচ্ছেদটি পড়ো এবং ৩ নং ও ৪ নং প্রশ্নের উত্তর দাও:
রুমানা ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। সে খুব দুর্বল বোধ করে এবং প্রায় সময় সে ঘুমাতে চায়। তার সহপাঠীরা তার চেয়ে লম্বা ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী।
৩. রুমানার এ অবস্থার কারণ-
ক. পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ না করা
খ. পরিমিত পরিমাণে না ঘুমানো
গ. পরিমিত ব্যায়াম না করা
ঘ. সময় মেনে খেলাধুলা না করা

৪. রুমানার এ সমস্যা দূরীকরণের উপায়-
i. প্রয়োজনের চাইতে বেশি খাদ্য গ্রহণ
ii. যথাযথ পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ
iii. বিভিন্ন ধরনের খাদ্য উপাদান বেশি গ্রহণ
নিচের কোনটি সঠিক?
ক. i
খ. ii
গ. iii
ঘ. i, ii ও iii

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. সুপ্তি ও কান্ত চাচার বাড়িতে বেড়াতে এলে চাচাতো বোন হেমা লক্ষ করল কান্তের শরীরটা ফোলা ফোলা। হেমা কান্তের মোটা হওয়ার কারণ জানতে চাইলে চাচি জানালেন অল্প খেলেও দিন দিন তার শরীর ফোলা হয়ে যাচ্ছে। হেমার চাচি আরও জানালেন কয়েকদিন হতে সুপ্তি সন্ধ্যার পর ঝাপসা দেখছে।
ক. খাদ্যের উপাদান কয়টি?
খ. দেহের ক্ষয়পূরণ বলতে কী বোঝায় লেখো।
গ. উদ্দীপকে হেমার দেখা কান্তের শারীরিক অবস্থার কারণ কী ব্যাখ্যা করো।
ঘ. কোন বিষয়ের অজ্ঞতা কান্ত ও সুপ্তির শরীরিক সমস্যার জন্য দায়ী বলে তুমি মনে করো।

২. নিচের চিত্রটি দেখো এবং প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।

ক. পুষ্টি কী?
খ. খাদ্যের সাথে পুষ্টির সম্পর্ক কী? বুঝিয়ে লেখো।
গ. যে পরিবেশে ২ নং চিত্রে খাদ্য গ্রহণ করছে তার উপকারিতা ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ১ নং চিত্রের পরিবেশ অনুসারে খাদ্য গ্রহণ করলে 'ক্ষতিকর চক্র' মতে কী ধরনের দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সৃষ্টি হবে বুঝিয়ে লেখো।

Content added By
Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...